Join Our Telegram Group to connect with bigger community. Join Now!

Table of Content

The Apothecary Diaries | Kusuriya no Hitorigoto | Review in Bangla - Peak Fiction

জুজুৎসু কাইসেন এর মাথা নষ্ট করা কাহিনীর মাঝে একটু স্বস্তির নিশ্বাস নিতে কোনো এক মাঙ্গা সাইটের হোমপেইজে ঘোরাঘুরি শুরু করি। চোখ পড়ে Kusuriya no Hitorigoto বা The Apothecary Diaries মাঙ্গা টার উপর। কভার টা ইন্টারেস্টিং হওয়ায় পড়া শুরু করে দিই। এইচএসসি এর মাঝে এই মাঙ্গা টা আমার রিফ্রেশমেন্ট এর উৎস ছিলো।

লিখেছেন - রুদাইবা আদনীনা The Apothecary Diaries | Kusuriya no Hitorigoto | Review in Bangla - Peak Fiction

কাহিনী:

কাহিনী সাধারণ বলা চলে। গল্পটা এনসিয়েন্ট চায়না এর নানা বিষয়বস্তুর উপর ভিত্তি করে তৈরি। আরো ভালো করে বলতে গেলে চীনের কোনো এক রেড লাইট ডিস্ট্রিক্ট এ কাহিনী শুরু হয়। রেড লাইট ডিস্ট্রিক্ট কি তা যারা ডেমন স্লেয়ার এর এন্টারটেইনমেন্ট ডিস্ট্রিক্ট আর্ক দেখেছেন তারা সহজেই বুঝতে পারছেন। মূল চরিত্র Maomao (মাওমাও) বেড়ে ওঠে রেড লাইট ডিস্ট্রিক্ট এর নামকরা Rokushoukan নামক এক পতিতালয়ে। এরপর এক ডাক্তার তাকে দত্তক নিয়ে নিজের মেয়ের মতো বড় করে তোলে। ডাক্তার বাবার কাছে বড় হওয়ায় তারও নানা ঔষধ এবং বিষাক্ত বস্তুর প্রতি আগ্রহ জন্মায়। এবং সে প্রায়ই তার বাবাকে নানা ঔষধ তৈরিতে সাহায্য করে।

একদিন ঔষধ তৈরির জন্য লতাপাতা সংগ্রহ করতে গিয়ে কিছু লোক মাওমাও কে অপহরণ করে নিয়ে ইম্পেরিয়াল হারেম কোর্ট এ বিক্রি করে দেয়। আমরা অনেকেই জানি প্রাচীন চীনে রাজার একাধিক স্ত্রী রাখার প্রচলন ছিল। ইম্পেরিয়াল হারেম কোর্ট হলো এমনি এক জায়গা যেখানে রাজার স্ত্রীরা বসবাস করতো। মাওমাও সেখানে সার্ভেন্ট হিসেবে নিয়োজিত হয় এবং একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সেখানে কাজ করতে চুক্তিবদ্ধ হয়। 

The Apothecary Diaries | Kusuriya no Hitorigoto | Review in Bangla - Peak Fiction
মাওমাও ও জিনসি 

হারেম কোর্ট এ মাওমাও এর জীবন বেশ সাধারণই ছিলো। তবে প্রাসাদ জুড়ে হঠাৎ এক গুজব ছড়ালো। রাজার সন্তানেরা নাকি একের পর এক মা/রা যাচ্ছে। এর কোনো কারণ শনাক্ত করতে না পেরে সকলে বলতে লাগলো রাজার বংশধর নাকি অভিশপ্ত। মাওমাও ডাক্তারের কাছে বেড়ে ওঠায় এসব কুসংস্কার ও গুজবে বিশ্বাসী ছিলো না। কৌতুহল বশত বিষয় টি পর্যালোচনা করে দেখলো রাজার স্ত্রীরা যে প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহার করে তা বিষাক্ত এবং নবজাতক এর মৃত্যুর জন্য দ্বায়ী। বিষয়টি সে এক টুকরো কাপড়ে লিখে রাজার এক স্ত্রী এর ঘরে চুপচাপ রেখে আসে। 

পুরো প্রাসাদে এ বিষয়টি ছড়িয়ে যায়। তবে ইতোমধ্যে এক ছেলে সন্তানও মা/রা যায়। রাজার সবচেয়ে পছন্দের স্ত্রী এর মেয়ে সন্তান কে কেবল বাচানো সম্ভব হয়। কিন্তু এতো বড় বিষয়টি কে লিখে অবগত করলো তা কেউ খুঁজে বের করতে পারলো না। মানুষটিকে খুজে বের করতে আসে প্রাসাদের দ্বায়িত্ব পালনকারী এক eunuch, Jinshi(জিনসি)।

ইউনাচ কি?

Eunuch হলো এমন পুরুষ যাদের প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়া হয়। প্রাচীন চীনে এ বিষয়টি খুবই প্রচলিত ছিল। শাস্তি স্বরুপ অথবা স্বেচ্ছায় পুরুষদের প্রজননে অক্ষম করে দেয়া হতো। এদের বেশিরভাগই সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত থাকতো এবং পারিশ্রমিক ও অনেক। Eunuch-রা মূলত ইম্পেরিয়াল হারেম কোর্ট এর বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত থাকে এবং একটা হারেম কোর্ট এ যতজন পুরুষ থাকবে তারা সবাই প্রজননে অক্ষম। ইম্পেরিয়াল হারেম কোর্ট এ মহিলা, রাজা এবং ইউনাচ ব্যতীত অন্যদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল।

জিনসি সকল সার্ভেন্ট কে জড়ো করে, এবং মাওমাও সেখানে উপস্থিত হয়। কাগজে লিখে জিন্সি মাওমাও কে সেখান থেকে চলে যেতে বলে। তখনকার যুগে অধিকাংশ মেয়েই লেখাপড়া জানতো না। মাওমাও লেখাটা পড়তে পারায় সেখান থেকে চলে যেতে নেয় এবং তখনই জিন্সী বুঝতে পারে সেই-ই প্রসাধনী সামগ্রী বিষাক্ত হওয়া সম্পর্কে সকলকে অবগত করেছিলো। মাওমাও কে তখন রাজার পছন্দের স্ত্রী Gyokuyou এর পয়জন টেস্টার হিসেবে নিয়োজিত করা হয়। 

The Apothecary Diaries কেনো পছন্দের?

The Apothecary Diaries | Kusuriya no Hitorigoto | Review in Bangla - Peak Fiction
কাহিনীতে মাওমাও এবং জিনসী চরিত্র দুটি আমার সবচেয়ে পছন্দের। মাওমাও খুবই বুদ্ধিমতী একটি চরিত্র এবং তার চিন্তা ভাবনা বাস্তবিক। মেইল লিড জিনসিকে অনেকটা চাইল্ডিশ ভাবে উপস্থাপন করা হলেও প্রকৃতপক্ষে সে চালাক এবং কানিং। এছাড়া অন্যান্য চরিত্রগুলোও সুন্দর ভাবে বিল্ড করা হয়েছে। গল্পে মাওমাও এর নানা রহস্য এবং রাজ্যে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা অনুসন্ধান এর কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। সেই সাথে প্রাচীন চীনের অবস্থা, সেখানকার সংস্কৃতি ও মানুষদের চিন্তা ভাবনাও উঠে এসেছে। কমেডিও আছে, তবে কাহিনীতে রোমান্স অনেক স্লো। যাদের রোমান্স ভালো লাগে তাদের এ মাঙ্গা হয়তো অতোটা পছন্দ হবে না।

অনেকের কাছে মাঙ্গা টি ভালো না লাগার আরেকটি কারণ, মাঙ্গাতে মেয়েদের অনেক ছোট করে দেখানো হয় এবং পণ্য বিবেচনা করা হয়। তবে তখনকার যুগে এটিই বাস্তব দৃশ্য ছিলো এবং মাঙ্গাকা সেটি চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। যারা হিস্টরিকাল জেনরে পছন্দ করে তাদের এই মাঙ্গা নিঃসন্দেহে ভালো লাগবে। এই নোভেল বেইসড্ মাঙ্গার আ্যনিমে রিলিজ হচ্ছে ২২ অক্টোবর।

Post a Comment